• মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪, ০৭:৩৭ পূর্বাহ্ন

২০ দলীয় জোট ছাড়ল খেলাফত মজলিস।।

প্রকাশক ও সম্পাদক / ৫৩১ Time View
Update : শুক্রবার, ১ অক্টোবর, ২০২১

কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার বিশেষ অধিবেশন শেষে প্রেস ব্রিফিং সংগঠনের আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ ইসহাক বলেন আদর্শিক রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে খেলাফত মজলিস স্বকীয়-স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য নিয়ে ময়দানে ভূমিকা রাখবে
আজ শুক্রবার(০১ অক্টোবর) বিকাল ৪টায় রাজধানীর নয়াপল্টনস্থ সীগাল রেস্টুরেন্টে খেলাফত মজলিস আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিং-এ খেলাফত মজলিস একটি আদর্শিক রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে স্বকীয়-স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য নিয়ে ময়দানে ভুমিকা অব্যাহত রাখার এবং এখন থেকে ২০ দলীয় জোটসহ সকল রাজনৈতিক জোটের সাথে সম্পর্ক ত্যাগ করার ঘোষণা দেয়া হয়।
এর আগে সংগঠনের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার বিশেষ অধিবেশনে এ বিষয়ে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়। ব্রিফিং-এ সংগঠনের আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাকের পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে খেলাফত মজলিসের অবস্থান জাতির সামনে তুলে ধরার লক্ষ্যে উপস্থাপিত লিখিত বক্তব্যে বলা হয়,
‘খেলাফত মজলিস একটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল হিসেবে জাতির প্রয়োজনে সর্বদা সক্রিয় ভুমিকা পালন করে আসছে। নিয়মতান্ত্রিক শান্তিপূর্ণ আন্দোলন-সংগ্রামে খেলাফত মজলিস বিশ্বাসী। একটি সুশৃঙ্খল সংগঠন হিসেবে দীর্ঘ তিন দশকেরও অধিক সময় রাজনৈতিক অঙ্গনে দেশ, জাতি, ইসলাম ও জনগণের পক্ষে ইতিবাচক ভুমিকা পালন করে আসছে। খেলাফত মজলিস মনে করে, দেশের প্রতিটি নাগরিকের রাজনৈতিক মতাদর্শ লালন ও পালন করার অধিকার আছে। যা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানেও স্বীকৃত। একটি সরব-সক্রিয় নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল হিসেবে খেলাফত মজলিসের রাজনৈতিক কর্ম-কৌশল সাংগঠনিক প্রক্রিয়ায় সময়ে সময়ে পর্যালোচনা করে, দলের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকে।
বিগত ২০১৯ সালের ২৫ জানুয়ারী অনুষ্ঠিত মজলিসে শূরার অধিবেশনে ২০ দলীয় জোটের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় যে, পরবর্তী সিদ্ধান্তের পূর্ব পর্যন্ত খেলাফত মজলিস জোটের কার্যক্রমে অংশগ্রহণ না করে রাজনৈতিক পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবে। সে অনুযায়ী দীর্ঘ দুই বছরের অধিক সময় ধরে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে আসছে।’

ব্রিফিং-এ আরো বলা হয়,’রাজনৈতিক জোট ইস্যু কেন্দ্রিক গঠিত হয়। জোট কোন স্থায়ী বিষয় নয়। খেলাফত মজলিস ২০ দলীয় জোটে দীর্ঘ ২২ (বাইশ) বছর যাবত আছে। ২০১৯ সাল থেকে ২০ দলীয় জোটের দৃশ্যমান রাজনৈতিক তৎপরতা ও কর্মসূচী নেই। ২০১৮ সালে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের মধ্য দিয়ে ২০ দলীয় জোটকে কার্যত রাজনৈতিকভাবে অকার্যকরও করা হয়। এমতাবস্থায় আদর্শিক, সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায়, ২০১৯ সালের মজলিসে শূরায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী খেলাফত মজলিস আজকের মজলিসে শূরার অধিবেশনে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে যে-
খেলাফত মজলিস একটি আদর্শিক রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে স্বকীয়-স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য নিয়ে ময়দানে ভুমিকা রাখবে এবং এখন থেকে ২০ দলীয় জোটসহ সকল রাজনৈতিক জোটের সাথে সম্পর্ক ত্যাগ করছে।’
ব্রিফ্রিং-এ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার পক্ষ থেকে সংগঠনের মহাসচিব বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ, লেখক, গবেষক ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ কারারুদ্ধ জননেতা ড. আহমদ আবদুল কাদের-এর অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির দাবী জানানো হয়। একই সাথে গ্রেফতারকৃত উলামায়ে কেরাম ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের আশু মুক্তির দাবীও করা হয়।
প্রেস ব্রিফিং-এর সময় অন্যান্যের মধ্যে- সংগঠনের নায়েবে আমীর অধ্যাপক মাওলানা যোবায়ের আহমদ চৌধুরী, হাফিজ মাওলানা মজদুদ্দিন আহমদ, মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, মাওলানা আবদুল বাছিত আজাদ, মাওলানা আহমদ আলী কাসিমী, অধ্যাপক মুহাম্মদ আবদুল হালিম, যুগ্মমহাসচিব- মুহাম্মদ মুনতাসির আলী, এবিএম সিরাজুল মামুন, ড. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সল, অধ্যাপক মো: আবদুল জলিল, সাংগঠনিক সম্পাদক- মাওলানা তোফাজ্জ¦ল হোসাইন মিয়াজী, এডভোকেট মিজানুর রহমান, অধ্যাপক কাজী মিনহাজুল আলম প্রমুখ-সহ কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ ও মজলিসে শূরার সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category