• মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪, ০৮:২২ পূর্বাহ্ন

বাউফলে ডাকাতির সরঞ্জামসহ ডাকাত চক্রের ৭সদস্য গ্রেফতার

বিশেষ প্রতিনিধি / ৩৫৪ Time View
Update : বুধবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৩

পটুয়াখালীর বাউফলে বনবিভাগের সাবেক আইনকর্মকতা বাড়িসহ একাধিক বাড়িতে ডাকাতির ঘটনার তদন্ত নেমে ডাকাত চক্রের প্রধানসহ ৭সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৭নভেম্বর) বাউফলসহ দেশের একাধিক স্থানে পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করা হয়।
বুধবার (৮নভেম্বর) বিকেল ৪টায় পটুয়াখালী জেলা পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে সুপার সুপার মো. সাইদুল ইসলাম এক প্রেস ব্রিফিং এ তথ্য জানান।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- বরিশালের গৌরনদীর বাটাজোড় গ্রামের মো. সোলায়মান হোসেন ওরফে রনি, বাউফল উপজেলার কালাইয়া গ্রামের বাচ্চু সরদার, একই গ্রামের উজ্জাল হোসেন ওরফে সাহেদ, মো. আমিনুল ইসলাম, পূর্বকালাইয়া গ্রামের জুলহাস ওরফে জুলফু ডাকাত, কনকদিয়া ইউনিয়নের ফারুক হোসেন, দাশপাড়া গ্রামের সুমন আকন ও পিরোজপুর জেলার নজরুল শেখ।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি বাউফলে একাধিক ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এসব ডাকাতির ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ তথ্য প্রযুুক্তির সহায়তায় কাজ শুরু করেন। প্রথমে বাউফল উপজেলার দাশপাড়া গ্রামের সুমন আকন নামে একজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার করে। পরে তার দেওয়া স্বীকারোক্তি ও তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাঁরা জানতে পারেন একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্র এসব ডাকাতির ঘটনার সাথে জড়িত। পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে চক্রের সদস্যরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থান নেন এবং বিভিন্ন পেশায় কাজ করেন। একটি ডাকাতি করতে মঙ্গলবার ঢাকা থেকে বরিশালে ৪ডাকাত সদস্য আসছেন এমন তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকা – বরিশাল মহাসড়কের ফরিদপুরের রাজৈন এলাকায় হানিফ পরিবহন থেকে বাচ্চু, উজ্জল, জুলহাস ও নজরুলকে আটক করে পুলিশ। পরে তাদের দেওয়া তথ্যে বরিশালের গৌরনদীর বাটাজোড় গ্রামের সোলায়মান রনিকে গ্রেপ্তার করে। ওই রাতে ডাকাত দলের সহযোগী ও আশ্রয়দাতা কালাইয়া গ্রামের আমিনুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আমিনুলের দেওয়া তথ্যে সুমন আকনের বাড়ি থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত ৩টি রামদা, ২শাবাল, ১টি কাটারসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ।
জেলা পুলিশ সুপার মো.সাইদুল ইসলাম বলেন, সম্প্রতি বাউফলে একাধিক ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এসব ডাকাতির ঘটনায় থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগীরা। ডাকাতির ঘটনা উদঘটনে জেলা পুলিশের একটি চৌকাস দল মাঠে কাজ শুরু করেন। দীর্ঘদিন কাজ করে ১০ সদস্য বিশিষ্ট ডাকাত দলের খোঁজ মিলে। দলের সদস্যরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছদ্মবেশে বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত থাকে। ডাকাতির দিন তারিখ ঠিক হলে সব সদস্যরা একাত্রিত হয়ে ডাকাতি সংঘটিত করেন। ডাকাতির অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার বিক্রি টাকা ভাগবাটোয়ারা করে নিয়ে যায়।
বাউফলে চুরি ডাকাতি বেড়ে যাওয়া নিয়ে গত ২৩ সেপ্টেম্বর প্রতিদিনের বাংলাদেশ পত্রিকায় ‘দুই মাসে দুই শতাধিক চুরি, বেড়েছে ডাকাতির ঘটনা’ শিরোনামে সংবাদও প্রকাশিত হয়েছিল। এতে জেলা পুলিশসহ প্রশাসনের ঊধ্বর্তণ কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে। জড়িতদের ধরতে পুলিশ তৎপরতা বৃদ্ধি করে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category