• বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ১২:২৫ পূর্বাহ্ন

জটিল রোগে আক্রান্ত আব্দুল্লাহকে বাঁচাতে এগিয়ে আসুন

Reporter Name / ৪৯১ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৪

শিশু আব্দুল্লাহ (৭) হৃদরোগ ব্লাড সার্কুলেশনসহ বিভিন্ন জন্মগত রোগে আক্রান্ত। তার হাত ও পায়ের নখ এবং শরীরের শিরা- উপশিরা নীল রং ধারণ করেছে। ওজন মাত্র ১১ কেজি। সামান্য হাঁটা চলা বা খেলাধুলা করলেই হাঁপিয়ে ওঠে, শ্বাস কষ্ট দেখা দেয়। ভারতের প্রখ্যাত চিকিৎসক দেবী শেঠীসহ কয়েকজন চিকিৎসক তার চিকিৎসা করেছেন।
তার দরিদ্র পরিবার সব সহায় সম্বল হারিয়ে কয়েক লাখ টাকা দিয়ে এ পর্যন্ত চিকিৎসা করালেও এখন আর চিকিৎসা করাতে পারছে না। চিকিৎসকরা বলেছেন তার চিকিৎসায় আরও ৬ লাখ টাকার দরকার। কিন্তু এত টাকার সংস্থান না থাকায় ধুকে ধুকে মৃত্যুর দিকে এগোচ্ছে এ নিষ্পাপ শিশুটি। আব্দুল্লাহর হৃৎপিন্ডে ছিদ্রসহ ব্লাড সার্কুলেশনের ডান পাশের শিরাটি বাম পাশের শিরার সঙ্গে যুক্ত হয়ে আছে, হার্ট সার্জারি করে এ জটিলতা দূর করা সম্ভব।
আবদুল্লাহর বাবা আলী আক্কাস পটুয়াখালী জেলা শহরের আলাউদ্দিন শিশু পার্ক এলাকায় ছোট একটি খেলনার দোকান দিয়ে সংসার চালান। মা মুসলিমা বেগম গৃহিণী। তাঁদের বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার নওমালা গ্রামে। দুই সন্তানের মধ্যে আবদুল্লাহ বড়। মেয়ে ফাইজার বয়স পাঁচ বছর।
চিকিৎসক দেবী শেঠি ১৮ মাস পর আবদুল্লাহকে নিয়ে পুনরায় যেতে বললেও অর্থাভাবে আর ভারতে নিতে পারেনি তার পরিবার।
আলী আক্কাস জানান, ঢাকার হৃদরোগ ইনষ্টিটিউটের চিকিৎসক অধ্যাপক এ বি এম আবদুস সালামের তত্তাবধানে আবদুল্লাহ চিকিৎসাধীন ছিলেন। ওই চিকিৎসকের বরাত দিয়ে তিনি জানান, আবদুল্লাহর হৃৎপিন্ডে ছিদ্রসহ ব্লাড সার্কুলেশনের ডান পাশের শিরাটি বাঁ পাশের শিরার সঙ্গে যুক্ত হয়ে আছে। ওপেন হার্ট সার্জারি করে এ জটিলতা দূর করা সম্ভব। অন্যথায় তাকে বাঁচানো সম্ভব নয়। পরে ঢাকার ধানমন্ডিতে ল্যাবএইড হাসপাতালের শিশু হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক নুর-নাহার ফাতেমার শরণাপন্ন হলে তিনি আবদুল্লাহকে ভারতের বেঙ্গালুরুতে নারায়ণা হেলথ হাসপাতালে উপমহাদেশের প্রখ্যাত হার্ট চিকিৎসক দেবী শেঠির কাছে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। ছেলেকে বাঁচাতে তিনি বাউফলের গ্রামের বাড়ির জায়গাজমি বিক্রিসহ মানুষের কাছ থেকে সাহায্য ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ২০১৭ সালের ১৯ আগষ্ট চিকিৎসক দেবী শেঠির কাছে নিয়ে যান। তবে শারীরিক সক্ষমতা না থাকায় আবদুল্লাহকে ওপেন হার্ট সার্জারির পরিবর্তে বাইপাস সার্জারি করা হয়। চিকিৎসেক দেবী শেঠি ১৮ মাস পর আবদুল্লাহকে নিয়ে পুনরায় যেতে বললেও অর্থাভাবে আর ভারতে নিতে পারেনি আবদুল্লাহর পরিবার। এখন চিকিৎসার অভাবে ধীরে ধীরে আবদুল্লাহর অবস্থার অবনতি হচ্ছে।
আবদুল্লাহর মা মুসলিমা বেগম ও বাবা আলী আক্কাস সন্তাননকে বাঁচাতে মানুষের কাছে ছুটছেন আর আকুতি জানাচ্ছেন।
আবদুল্লাহর মা মুসলিমা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে সমাজের বিত্তবান মানুষের কাছে আর্থিক সহয়তা কামনা করছেন।
আবদুল্লাহর বাবা আলী আক্কাস তীর শিশু সন্তান আবদুল্লাহকে বাঁচাতে সমাজের হৃদয়বান, দানশীল ব্যক্তিদের কাছে আর্থিক সহায়তার জন্য আকুল আবেদন জানিয়েছেন।
বাউফল উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আবদুল্লাহকে সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বশির গাজী।
সাহায্যের আশ্বাস দিয়ে বাউফল পৌরসভার মেয়র ও জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল হক জুয়েল বলেন, বছর দেড়-দুই আগে আমি ওর চিকিৎসার জন্য সাহায্য করেছিলাম। বর্তমান অবস্থা জেনে শিশু আবদুল্লাহর চিকিৎসার জন্য পটুয়াখালী জেলা ও জেলার বাইরের সকল বিত্তবান মানুষকে পাশে দাড়ানোর অনুরোধ করেন মেয়র জুয়েল।

সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা। মো. আলী আক্কাস, ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড, পটুয়াখালী শাখা, সঞ্চয়ী হিসাব নম্বর ০১৪৪১২২০০০২১৭০৯, মুঠোফোন (বিকাশ ও নগদ) ০১৮৪২৭৯৯৯৭৯।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category